Product Sourcing from China

Made in China” শব্দটি নিয়ে অনেকের অ্যালার্জি আছে। অনেকেই  “Made in China” শব্দটা শুনলেই ভুরু কুচকান। কিন্তু বাস্তবতা হল- চায়না এমন একটি জায়গা যেখানে আপনি আপনার বাজেট অনুসারে প্রোডাক্ট পাবেন। আপনি চাইলে নিজের নামে বা ব্রান্ডে প্রোডাক্ট তৈরি করিয়ে নিতে পারেন। আপনার বাজেট এবং কুয়ালিটি অনুযায়ী দাম কম বেশী হবে তবে তার চাইতে বেশী যা তাদের কাছে (মানে চাইনিজ ফ্যাক্টরি) তা হল কুয়ান্টিটি। আপনার অর্ডার এর পরিমান যত বড় বা বেশী আপনার প্রোডাক্ট এর দাম সেই অনুপাতে কমতে থাকবে।

একটি উদাহরণ দিয়ে বলি তাহলে বুঝতে অনেক বেশী সহজ হবে-

***

 

একটি তথ্য দেই যা শুনলে হয়তো আপনার টোটাল ধারনাই পাল্টে যাবে- আপনি কি জানেন আলিবাবা কিংবা আলি এক্সপ্রেস এর যত প্রোডাক্ট সেল হয় তার ৬০% এর বেশী প্রোডাক্ট ট্রেডিং কোম্পানি মানে  3rd party (৩য় পক্ষ) এর মাধ্যমে সেল হয় (প্লিজ এখানে আবার কেউ জিজ্ঞাসা করবেন না এই ডাটা আমি কই পাইছি 😀 – জাস্ট একটু স্মার্টলি কিছু প্রশ্ন করলেই বুঝে যাবেন কে ফ্যাক্টরি আর কারা ট্রেডিং কোম্পানি)। সরাসরি ফ্যাক্টরি থেকে প্রোডাক্ট অনেক সাশ্রয়ী দামে কিন্তু পারবেন এই ধারনা সব সময় ঠিক না। আপনার যদি অল্প অর্ডার হয় তাহলে ট্রেডিং কোম্পানিই আপনাকে ভালো প্রাইস দিতে পারবে।

সত্যিকার অর্থে যারা প্রোডাক্ট তৈরি করে মানে ফ্যাক্টরি তাদের অধিকাংশই ইন্টারন্যাশনাল মার্কেটিং এ পর্যাপ্ত টাকা এবং সময় ব্যয় করতে রাজিনা। তার অন্যতম একটি কারন ভাষা। যারা একটু ভালো ইংরেজিতে কথা বা কমুনিকেট করতে পারে তারা খুব দ্রুত তাদের জব চেঞ্জ করে এবং বেতন বা অন্যান্য সুবিধাদি বেশী দিতে হয়। আর এর জন্যই ছোট বা মাঝারি কম্পানিরা নিজেদের প্রোডাক্ট এর মার্কেটিং নিজেরা না করে  ট্রেডিং কোম্পানি মানে  3rd party এর মাধমেই সেল করতে সুবিধা মনে করেন।  তাদের কাছে সহজ হিসাব- অন্য কেউ যদি তার প্রোডাক্ট সেল করে দিতে পারে তাকে তাদের কমিশন দিতে কোন আপত্তি নেই 😛

চায়না থেকে প্রোডাক্ট কি আনা উচিৎ?

***

কোন ধরনের প্রোডাক্ট চায়না থেকে আনা লাভজনক?

***

কোন ধরনের প্রোডাক্ট আনলে কাস্টমস এ প্রবলেম করবেই?

***

 

কার কাছ থেকে কেনা উচিৎ?

আপনার যদি অল্প প্রোডাক্ট এর দরকার হয় মানে এই ধরেন ১০/২০/৫০ পিস সেক্ষেত্রে সরাসরি ফ্যাক্টরির কাছে গেলে আপনাকে তারা পাত্তাই দেবেনা। মনে রাখবেন, একটি ফ্যাক্টরির কাছে ২/৩ মিলিওন পিস এর অর্ডার ও কিন্তু খুব বেশী না।  আপনি যদি আপনার ই- কমার্স সাইট বা ছোট বিজনেস এর জন্য চায়না থেকে প্রডাক্ট আনাতে চান তাহলে কিছু বিষয় সব সময় মাথা রাখতে হবে। এক্ষেত্রে একটি কথা মনে রাখলে আপনার অনেক সময় বেচে যাবে-

আপনি আপনার অর্ডার সাইজ অনুযায়ী কোম্পানির কাছে যান। কখনোই কম কুয়ান্টিটির অর্ডার নিয়ে বড় ফ্যাক্টরির কাছে গিয়ে দাম পাবেন না। তাই আপনাকে আপনার সাইজ অনুযায়ী কোম্পানি খুজে বের করতে হবে।

কোথায় পাবেন সাপ্লাইয়ার?

সহজ উপায় হল অনলাইনে সেলার খুজে নেয়া। কিন্তু অসুবিধা হল অনলাইনে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দাম তুলনামুলক বেশী। তাই প্রোডাক্ট এর ধরন, ক্যাটেগরি, দাম ও পরিমানের উপর ভিত্তি করে আপনাকেই ডিসিশন নিতে হবে- কোন পদ্ধতি আপানর জন্য বেশী উপযোগী হবে।

১. অনলাইনে প্রোডাক্ট ও সাপ্লাইয়ার খোজা

***

২. অফলাইন- হোলসেল মার্কেট থেকে প্রোডাক্ট ও সাপ্লাইয়ার খোজা

***

৩. ট্রেড ফেয়ার থেকে প্রোডাক্ট ও সাপ্লাইয়ার খোজা

***

 

১০ টি কোম্পানির সাথে কথা বললে আপনি অনেক কিছুই জেনে যাবেন। তবে কিভাবে কম সময়ে অধিক ইনফরমেশন কালেক্ট করা যায় তার জন্য কিছু রুলস ফলো করলে দ্রুত ফল পাবেন আশা করি-

১. কমুনিকেশন

চাইনিজ কোম্পানির সাথে যোগাযোগ করতে হলে এবং দ্রুত রিপ্লাই পেতে ইমেইল এর চাইতে WeChat or QQ or Alibaba Trade Manager ব্যাবহার করতে পারেন। তবে বর্তমানে প্রায় সবাই WhatsApp ও ব্যাবহার শুরু করেছে। তাই শুধু ইমেইল এর ভরসা না করে ইনফরমেশন কালেকশন এর জন্য লাইভ চ্যাট কে বেছে নিতে পারেন।

২. বন্ধুত্ব গড়ে তুলুন

যখন কোন কোম্পানির সাথে যোগাযোগ করবেন, সেখান থেকে আপনার কন্টাক্ট উইন্ডো হিসেবে যাকে অ্যাসাইন করা হবে তার সাথে বন্ধুত্ব করে ফেলুন। এই বন্ধু আপনাকে শুধু ভালো প্রাইস না অনেক ক্ষেত্রে তার চাইতেও বেশী হেল্প করতে পারে।  ছোট ছোট কিছু চাইনিজ ভাষা শিখে নিতে পারেন – এই যেমন “Ni hao ma (উচ্চারন করে – নি হাঁ মা) “- মানে- “তুমি কেমন আছ”। তাতে করে শুধু বিজনেস না অনেক ক্ষেত্রেই পার্সোনাল একটি ফ্রেন্ডলি সম্পর্ক গড়ে উঠবে। আমার এমন অনেক হয়েছে এবং এখনো তাদের সাথে মাঝে মাঝেই কথা হয়। বিজনেস এর বাইরেও একটি দুনিয়া আছে সেটি ভুলে যাবেন না 😀

 

৩. ভাষার ব্যাবহার

কথা বলার সময় কিংবা চ্যাট করার সময় কিংবা ইমেইল এ অবশ্যই এবং সব সময়  সহজ ও ছোটো ছোট শব্দ ব্যাবহার করবেন। আর লিখার সময় আরও ভালো হয় যদি বুলেট দিয়ে দিয়ে পয়েন্ট করে লেখেন। একটি কথা মনে রাখবেন, চাইনিজরা খুব সহজেই কনফিউজড হয়ে যায়। তাই এমন জটিল কিছু বলবেন না বা লিখবেন না যাতে সেই রকম পরিস্থিতি হয়।

৪. পেমেন্ট কিভাবে করবেন?

****

 

আপনি আসলে কার কাছ থেকে প্রোডাক্ট কিনছেন? সবাই চায় ভালো প্রোডাক্ট বা ভালো ফ্যাক্টরি থেকে প্রোডাক্ট নিতে। তার মুল কারন প্রোডাক্ট এর কুয়ালিটি।

 

১. ট্রেডিং কোম্পানি

২. সরাসরি ফ্যাক্টরি/ প্রস্তুতকারক

 

কিভাবে বুঝবেন আপনি ট্রেডিং কোম্পানি থেকে কিনছেন নাকি সরাসরি ফ্যাক্টরি থেকে কিনছেন?

এটি একটি লং প্রসেস কিন্তু আপনি কিছু বিষয় খেয়াল রাখলে খুব সহজেই বুঝে যাবেন আপনি কার সাথে ডিল করতে যাচ্ছেন। তবে একটি জিনিশ মাথায় রাখবেন- চাইনিজরা কিন্তু খুব ইন্টিলিজেন্ট। আপনি একটু বেশী …. করে ফেললে তারা কিন্তু ঠিকই বুঝে ফেলবে। তাহলে কিভাবে বুঝবেন? অনেক ভাবেই সেই বিষয় গুলি জানতে পারেন তার মধ্যে সব চাইতে ইফেক্টিভ ওয়ে হচ্ছে-

১. ফ্যাক্টরি ভিজিট করা

এখানেও কিন্তু আছে- কেমন? একটি ফ্যাক্টরি তাদের প্রোডাক্ট সেলিং এর জন্য যাদের সাথে কাজ করে (মানে 3rd Party/ Trading Company), যখন কোন বায়ার তাদের ফ্যাক্টরি ভিজিট করতে চায় তখন তাদের টোটাল পরিবেশটা  এমন করে ফেলে জে সে সত্যিকার অর্থেই সে ঐ ফ্যাক্টরির লোক।

তাহলে কিভাবে বুঝবেন? হ্যাঁ বুঝার উপায় আছে- আপনি তাকে নিয়ে তাদের প্রডাকশন ফ্লোরে যান। যেখানে প্রোডাক্ট তৈরি হচ্ছে। সে যদি ঐ ফ্যাক্টরির অন্য কাউকে সাথে না নিয়ে নিজেই সরাসরি ফ্লোরে নিয়ে যায় এবং অন্যদের সাথে কথা বলে বা কার কাজ কেমন চলে, কোন সমস্যা হচ্ছে কিনা এমন কিছু দেখেন তাহলে নিশ্চিত থাকুন জে সে ঐ ফ্যাক্টরির নিজেদের লোক। আর যদি দেখেন প্রডাকশন ফ্লোরে তার দিকে চাইনিজ মেয়েরা একজন নবাগত কাউকে দেখলে যেমন তাকিয়ে দেখে এবং কারো সাথেই আসলে কোন কথা বলছে না তাহলে ধরে নিতে পারেন যে সে আসলে এই ফ্যাক্টরির নিজেদের লোক না হবার সম্ভাবনা খুবই কম।

২.

3.

4.

***

চায়না থেকে প্রোডাক্ট কেনার ক্ষেত্রে কিছু বিষয় অবশ্যই খেয়াল করা উচিৎ-

১. প্রোডাক্ট এর কুয়ালিটি

২. অয়ারেন্টি বা আফটার সেলস সাপোর্ট

৩.

৪.

****

অ্যাপল এর মত কোম্পানিও কিন্তু চায়না থেকেই তাদের প্রোডাক্ট বানিয়ে নিয়ে সারা পৃথিবীতে সেল করছে। এখন প্রশ্ন হল আপনি কিভাবে শুরু করতে চান তার উপর। এক্ষেত্রে আপনার ৩ টি রাস্তা খোলা আছে-

১. কোন নাম ছাড়া বা ব্র্যান্ড এর নাম ছাড়া প্রোডাক্ট সোর্সিং করা

এক্ষেত্রে আপনি আপনি দ্রুত প্রোডাক্ট পাবেন। অর্থাৎ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই প্রোডাক্ট রেডি থাকে। শুধু আপনাকে

২. অন্নের ব্র্যান্ড এর প্রোডাক্ট প্রোডাক্ট সোর্সিং করা

৩. নিজের নামের / ব্র্যান্ড এর  প্রোডাক্ট সোর্সিং করা

 

১. চায়না ভিজিট করে প্রোডাক্ট কেনা

 

২. অনলাইন থেকে প্রোডাক্ট কেনা

 

** ডেলিভারি

*  কার্গো

** CNF

** 3rd Party

** Customs

 

প্রোডাক্ট বাংলাদেশে তথা আপনার ওয়্যারহাউজে বা স্টরে আসার সাথে সাথে আপনার কি কি করনিও?

১.

২.

৩.

৪.

৫.

 

Leave a Reply