eCommerce Product Sourcing Secret

product sourcing

যেকোনো উদ্যোগই মুলত কিছু প্রবলেম এর সল্যুশন দেয়া। আর যে যত ভালো, কার্যকর ও অধিকতর সাশ্রয়ী সমাধান নিয়ে আসে তারাই অন্যদের চাইতে ভালো করে। বাংলাদেশে ট্যাক্সি সার্ভিস তো সেই কত আগে থেকেই আছে কিন্তু দেখুন উবার মাত্র কয়েক সপ্তাহেই সব হিসাব নিকাশ কেমন পালটে দিয়েছে।

অনেকেই আজকাল দেখি ই-কমার্স বিজনেস শুরু করতে চান কিন্তু কি প্রোডাক্ট বা সার্ভিস নিয়ে শুরু করবেন তা সিওর না বা ঠিক মত সিলেকশন করতে পারেন না। আর বড় ভুল কিন্তু এখান থেকেই শুরু হয়। নতুন কিছু করা সহজ- সহজ এই অর্থে যে পুরনো সমস্যা নিয়ে অনেকেই কাজ করছে বা অনেকেই আলরেডি সফল তাই সেই পথে না গিয়ে নতুন কিছু শুরু করা সহজ। তবে অবশ্যই কি শুরু করবেন তা নিয়ে অনেক গবেষণা বা মার্কেট ডিমান্ড যাচাই করে নেয়া উচিত।

হয় আপনাকে অন্যদের চাইতে ভালো কিছু দিতে হবে বা একদম নতুন কিছু নিয়ে আসতে হবে। তবে বার বার যেটি বলছি তা হল প্রবলেম এর নতুন সল্যুশন বা অন্যদের চাইতে ভালো সমাধান নিয়ে আসতে হবে।

তাহলে এখন যদি বলেন যে নতুন কিছু পাবো কই? প্রবলেম তো অনেক কিন্তু আমি কোনটার সমাধান দিতে পারি সেটি তো জানি না বা আমি নতুন কিছু নিয়ে কাজ করার কোন আইডিয়া পাচ্ছি না।

ই-কমার্স এর প্রোডাক্ট সোর্স করার আগে কিছু বিষয় কন্সিডারেশন করা উচিত বলে আমি মনে করি-

 

  • যেকোনো একটি প্রডাক্ট কে আপনার কোর (প্রধান) প্রোডাক্ট হিসেবে নেয়া উচিৎ
  • একদম কম দামের প্রডাক্ট এড়িয়ে যাওয়া উচিৎ
  • ডুপ্লিকেট বা রেপ্লিকা প্রোডাক্ট নিয়ে কাজ না করা অনেক বড় একটি ডিসিশন এবং এটি মেনে চলা উচিৎ
  • নতুন প্রোডাক্ট নিয়ে কাজ করার মানসিকতা থাকাটা অনেক বেশী জরুরি
  • রেগুলার মার্কেট ভিজিট বা অন্য কোনভাবে মার্কেটে প্রোডাক্ট ডিমান্ড মনিটর করা উচিৎ

 

বোনাসঃ অন্যদের থেকে কপি পেস্ট করা থেকে বিরত থাকা। তবে হ্যাঁ যদি তার চাইতে ভালো কিছু বেনিফিট কাস্টমার কে দিতে পারেন- তাহলে ঠিক আছে। 😛

 

আমি এখানে কোন সমাধান দেবো না বা বলবনা যে এইটা নিয়ে শুরু করেন।। কিন্তু ছোট্ট একটি উদাহরণ দেই যা হয়তো আপনার চারপাশের পুরনো কোন প্রবলেম কে আপনার চোখের সামনে নিয়ে আসবে যা নিয়ে শুরু করতে পারেন একদম নতুন কিছু। তবে প্রডাক্ট সিলেকশনের ক্ষেত্রে আমার নিজের একটি সেক্রেট রেসিপি দিয়ে দিচ্ছি আর সেটি হল- “এভার গ্রিন প্রডাক্ট” মানে যে প্রডাক্ট দীর্ঘদিন সেল করতে পারবেন এমন কিছু সিলেক্ট করুন। সিজনাল প্রোডাক্ট নিয়ে কাজ করাকে নিরুৎসাহিত করছিনা তবে সেটি মে বি কোন সেক্রেট কিছু না 😛

 

বেশ কয়েক বছর আগে খাবারে বা ফলে ফরমালিন আছে কিনা টেস্ট করার জন্য কোন একজন উদ্ভাবন করলেন স্বল্প দামের টেস্টার যার মাধ্যমে অল্প খরচে ফরমালিন টেস্ট করা যেত। এবং সেই প্রডাক্ট অল্প কিছুদিনের মধ্যেই সারা দেশে ব্যাপক সারা ফেলে দিল এবং লাখ লাখ পিস সেল হল। বড় ফার্মেসী থেকে শুরু করে গলির দোকান পর্যন্ত পাউয়া যেত- কিন্তু এখন আর তা তেমন দেখা যায় না। কিছুটা হুজুগ ছিল বলতে পারেন। তার মানে এটি এভার গ্রিন প্রোডাক্ট নয়।
এখন নিশ্চয়ই ভাবছেন, এভার গ্রিন প্রোডাক্ট তাহলে আবার কি? চলুন তাহলে নতুন কিছু নিয়ে কথা বলি দেখা যাক আসলে সেটি নিয়ে কাজ করা যায় কিনা। শুধু ই-কমার্স না সেটি সার্বজনিন কিছু হলে তো কথাই নেই। এমন কিছু কি এখনো বাদ আছে নাকি? 😀  আপনার এই প্রশ্ন একদম ঠিক আছে এবং এর উত্তর ও পেয়ে যাবেন একটু পরেই।

 

আপনাকে যদি জিজ্ঞাসা করি, আপনার সকাল থেকে রাতে ঘুমাতে যাবার আগ পর্যন্ত ৫ টি প্রবলেম এর কথা বলুন তাহলে কি কি বলবেন? হয়তো আপনার উত্তর আলাদা হতে পারে বা কিছুটা মিলেও যেতে পারে, যেমন-

  1. রাস্তায় অনেক জ্যাম
  2. সবদিকে অনেক ময়লা, দুর্গন্ধ
  3. বাজার এ জিনিশ পত্রের দামে আগুন
  4. বিশ্বস্ত লোকের অভাব- বিশেষত কাজের বুয়া নিয়ে অনেক ঝামেলায় আছি
  5. একটু শান্তি মত বসার উপায় নেই- অনেক “মশা

 

এখন এই বিষয়গুলি বা আপনার ক্ষেত্রে যদি অন্যকিছু আসে সেটি নিয়ে গবেষণা শুরু করুন। পরিবারের অন্যদের সাথে কথা বলুন, বন্ধু/বান্ধবিদের সাথে কথা বলুন। তাদের কাছ থেকে নিশ্চয়ই আরও কিছু নতুন শব্দ এই লিস্টে যোগ হবে। তবে চেস্টা করুন লিস্ট ছোট রাখতে যাতে বেশী ফোকাস করতে পারেন। ছোট বেলায় আতশি কাচ দিয়ে আগুন ধরানোর কথা মনে আছে? মনে রাখবেন- যত বেশী এবং এক জায়গায় ফোকাস তত তারাতারি রেজাল্ট। 😀

product sourcing

উপরের বিষয়গুলি নিয়ে বিস্তারিত কিছুতে জাচ্ছি না- তবে চলুন একটি বিষয় নিয়ে কথা বলি। “মশা” খুব ছোট প্রানি কিন্তু সেই ছোট বেলা থেকেই দেখে আসছি। অসহ্য একটি জিনিশ। শুধু অসহ্য না অনেক ক্ষতির ও কারন। অনেক বড় বড় রোগের বাহক এই মশা। এখন যদি একটু মাথা চুলকান তাহলেই দেখতে পাবেন- মশার জন্য কত কিছুই তো আছে বাজারে। যেমন কয়েল, এরোসল, মশারি, নানারকম কীটনাশক সহ অনেক ইলেকট্রনিক ডিভাইসও আছে মার্কেটে। কিন্তু খেয়াল করে দেখুন কেউই কিন্তু ১০০% মার্কেট ধরতে পারেনি, তার মানে কারো সল্যুশনই ১০০% কাজ করছে না।

product sourcing

মানে এটি হতে পারে আপনার জন্য এভার গ্রিন প্রোডাক্ট যা বছরের পর বছর ধরে চলে আসছে এবং চলবে যুগের পর যুগ। এটাকেই আসলে বলে এভার গ্রিন প্রোডাক্ট (উদাহরণ কি বেশী মাত্রায় ফালতু হয়ে গেল নাকি?) সিরিয়াসলি একবার ভাবুন, যদিও এর সমাধান এতো সহজে দেয়া যাবেনা। কিন্তু ভেবে দেখতে পারেন এই প্রবলেমটি নিয়ে। এটি শুধু দেশি প্রবলেম না সারা পৃথিবীতেই এই মশার রাজত্ব। তাই যদি এমন কোন সল্যুশন নিয়ে আসতে পারেন তাহলে সেটি বিদ্যুৎ আবিষ্কারের চাইতে কোন অংশে কম হবেনা মনে হয়।

 

তার মানে আপনার একটি সল্যুশন সারা দুনিয়ার অনেক বড় একটি সমাধান দিতে পারে। ই-কমার্স থেকে অনেক দূরে চলে গেছি মে বি। যাই হোক এটি একটি উদাহরণ হিসেবে নিলে ভুল হতে পারে আপনার। একবার ভেবে দেখবেন আসলেই এই মশাদের নিয়ে কিছু করা যায় কিনা।

মুল কথা হল, নতুন কিছু নিয়ে আসতে হবে। একদম নতুন না হলেও অন্যদের চাইতে যাতে আলাদা হয়। ভ্যালু অ্যাড করতে হবে। মনে রাখবেন, আমাদের দেশ কিন্তু এখন আর গরীব না। আমাদের কাছে টাকা আছে, দরকার ভালো সার্ভিস। ভালো সার্ভিস আপনার সাধারণ প্রোডাক্ট কেই অন্য এক উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে।

 

ই-কমার্স নিয়ে আরও লিখবো, তবে মশা নিয়ে আরেকবার ভেবে দেখবেন- এদের নিয়ে সত্যিই অনেক কষ্টে আছি। মশার কামরের জন্যই অন্তত ৪ বার এক লাইন থেকে অন্য লাইনে চলে গেছি। তাই মশা নিয়ে কেউ কিছু করতে পারলে বা করতে চাইলে কমেন্ট করবেন। ভালো থাকবেন সবাই।

চলতে থাকবে…!

 

 

6 Comments

  1. thanks, Zakir vai. wish u all the best. waiting for ur next topic.

     
    1. Author

      Thank you too. Will definitely write and share my real-time experience which could help others too.

       
    1. Author

      You are most welcome and hope to write the next section in coming days. (y)

       
  2. ধন্যবাদ তবে আশা করি লেখাটির সমাপ্তি টানবেন।

     
    1. Author

      হ্যাঁ চেষ্টা করবো ইনশা আল্লাহ। এই লিখার আরও ৪/৫ টি নতুন ধাপ অ্যাড করবো তবে হয়তো তার জন্য আরও ৩/৪ মাস পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে। ধন্যবাদ আপনার মতামতের জন্য। ভালো থাকবেন

       

Leave a Reply